অ্যান্টন চেখভের ছোটগল্প ‘শক্র’ সম্পূর্ণ বাংলায় পড়ুন। একমাত্র ছেলে হারানো ডাক্তার কারিলভ আর তাঁর চিরশত্রু—শোকের মধ্যে মানুষের আসল রূপ।
গল্পের সারসংক্ষেপ
জেমস্তভোর ডাক্তার কারিলভের একমাত্র ছেলে আন্দ্রেই ডিপথেরিয়ায় মারা যায়। তাঁর চিরশত্রু আবোগিন দরজায় এসে কারিলভকে ডাকেন, কারণ তাঁর স্ত্রীর প্রতিকারে একমাত্র কারিলভই পারেন। প্রথমে ক্ষোভের বশে কারিলভ স্পষ্টভাবে ফিরিয়ে দেন, কিন্তু শেষ নিজেরই ভেঙে পড়েন। গল্পটি প্রমাণ করে, শোকের অবস্থায় কোনো মাপ্লা নেই—বরং মানুষ তখনই নিজের আসল রূপ প্রকাশ করে।
শক্র
সেপ্টেম্বর মাসের কোনো এক অন্ধকার রাতে, ন’টা বাজার কিছুকাল পরে, জেমস্তভোর ডাক্তার কারিলভের একমাত্র পুত্র ডিপথেরিয়া রোগে মারা গেল।
ডাক্তারের স্ত্রী সবে মাত্র সন্তানহারা শোকে বিধ্বস্ত হয়ে মৃত সন্তানের শয্যার পাশে নতজানু হয়ে বসেছে, এমন সময় সদর দরজার ঘণ্টাটা সজোরে বেজে উঠল।
ডিপথেরিয়ার ভয়ে বাড়ির চাকরবাকরদের সকাল থেকেই বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারিলভ যে অবস্থায় ছিল, পরনে সাধারণ সার্ট আর বোতাম খোলা একটা ওয়েস্টকোট, সেই অবস্থাতেই, এমনকি চোখের জলে ভেজা মুখ ও কার্বলিক অ্যাসিডের দাগ লাগা হাতদুটো না মুছেই, দরজা খুলতে গেল। হলঘরটা অন্ধকার, আগন্তুককে দেখে এইটুকুই শুধু বোঝা গেল, সে মাঝারি লম্বা, তার গলায় একটা সাদা মাফলার জড়ানো আর তার প্রকাণ্ড মুখটা এমন বিবর্ণ যে মনে হল তাতে যেন ঘরের অন্ধকারটাও ফিকে হয়ে গেছে।
‘ডাক্তারবাবু, আপনি বাড়িতে আছেন?’ ঘরে ঢুকেই সে প্রশ্ন করল।
‘হ্যাঁ, আমি আছি।’ কারিলভ উত্তর দিলেন। ‘আপনি কি চান?’
‘যাক, আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে বাঁচলাম।’ লোকটা হাঁফ ছেড়ে বলল। অন্ধকারে ডাক্তারের হাতের সন্ধান করে আগ্রহে দু’হাত দিয়ে চেপে ধরল। ‘সত্যিই বাঁচলাম... কী আর বলব! আপনার সঙ্গে আমার আগেও দেখা হয়েছে। আমার নাম আবোগিন... গ্রিনুশেভদের ওখানে আপনার সঙ্গে আলাপের সুযোগ হয়েছিল, মনে আছে? গত গ্রীষ্মে। আপনার দেখা পেয়ে সত্যিই খুব খুশি হলাম। এক্ষুনি আমার সঙ্গে আসতে হবে। দয়া করুন... আমার স্ত্রী ভীষণ অসুস্থ। আমার গাড়ি বাইরে অপেক্ষা করছে।’
আগন্তুকের হাবভাব কথাবার্তা থেকে বোঝা যাচ্ছিল সে খুব একটা মানসিক উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তার নিশ্বাস পড়ছে ঘন ঘন, গলার আওয়াজ কাঁপছে, কথাও বলছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, মনে হচ্ছে যেন আগুনে পুড়বার হাত থেকে কিংবা পাগলা কুকুরের তাড়া খেয়ে কোনোমতে সে এইমাত্র বেঁচে এসেছে। শিশুর মতো কোনো রকম ভণিতা না করে সে কথা কইতে যাচ্ছে—ভাঙা ভাঙা অসম্পূর্ণ তার কথা, আতঙ্কগ্রস্ত মানুষের মতো। মাঝে মাঝে এমন কথাও বলছে আসল বক্তব্যের সঙ্গে যার কোনো সম্পর্কই নেই।
‘আপনাকে বাড়িতে পাবো না ভেবে তো ঘাবড়িয়েই গিয়েছিলাম।’ সে বলে চলল। ‘কী দুর্ভাগ্যায় যে এতটা পথ এসেছি... কোটটা পরে ফেলুন, দোহাই আপনার, চলে আসুন... ঘটনাটা এই: প্যাপাশিনস্কি আলেক্সান্দ্র সেমিওনিচ আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। আপনি তো তাঁকে চেনেন। আমরা কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে চায়ের টেবিলে গিয়ে চা পান করতে বসেছিলাম। হঠাৎ আমার স্ত্রী বলে হাত দিয়ে চিৎকার করে উঠে সঙ্গে সঙ্গে চেয়ারে এলিয়ে পড়ল। আমরা দু’জনে ধরাধরি করে তাঁকে বিছানায় শুইয়ে দিলাম। তার রগে অ্যামোনিয়া ঘষে দিলাম... জল ছিটালাম, কিন্তু মড়ার মতো অসাড় হয়ে সে পড়ে রয়েছে। আমার তো ভয় হচ্ছে, শিরা ছিঁড়ে গেল না তো? দয়া করে চলে আসুন... ওর বাবাও এমন শিরা ছিঁড়ে মারা গেছেন...’
কারিলভ চুপচাপ শুনে গেলেন। ভাবটা যেন তিনি রুশ ভাষা বোঝেনই না।
আবার যখন আবোগিন প্যাপাশিনস্কি ও তার শ্বশুরের কথা তুলে অন্ধকারে কারিলভের হাতটা সন্ধান করতে লাগল, ডাক্তার মাথাটা পিছনে হেলিয়ে করুণভাবে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
‘অত্যন্ত দুঃখিত, আমি যেতে পারছি না। পাঁচ মিনিট আগে আমার... আমার ছেলে মারা গেছে।’
‘না না, সে কি!’ এক পা পিছিয়ে হটে আবোগিন অস্ফুটস্বরে বলল। ‘হা ভগবান, কী দুঃসময়ে আমি এসে হাজির হলাম। উঃ, আজকের দিনটা কী দুর্ভাগ্যজনক... বাস্তবিক, মনে রাখার মতো। কী যোগাযোগ... কেউ কি এ কথা ভাবতে পেরেছিল?’
সে দরজার হাতলটা ধরল, তার মাথাটা নুয়ে পড়েছে যেন দারুণ ভাবনায়। স্পষ্টতই সে ঠিক করতে পারছে না চলে যাবে, না আসার জন্যে ডাক্তারকে অনুনয় করে যাবে।
‘শুনুন!’ কারিলভের সার্টের আস্তিনটা ধরে আবেগভরে সে বলতে লাগল। ‘আপনার অবস্থাটা সম্পূর্ণ বুঝতে পারছি। এই সময়ে আপনাকে বিরক্ত করতে হচ্ছে বলে আমি যে কত লজ্জিত তা ভগবানই জানেন। কিন্তু আমার উপায় কী বলুন। আপনি নিজেই ভেবে দেখুন, আমি কোথায় যাই। আপনি ছাড়া এ অঞ্চলে আর একজনও ডাক্তার নেই। দোহাই আপনার, একবার আসুন। জোর করে আমি আপনাকে ডাকছি না... আমার নিজের কোনো রোগ হয়নি।’
দু’পক্ষই কিছুক্ষণ চুপচাপ। কারিলভ আবোগিনের দিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে। দেড় মিনিট ওইভাবে থেকে হলঘর থেকে ধীরে ধীরে তিনি চলে এলেন বসার ঘরে। অন্যমনস্কভাবে ও অনিশ্চিত যান্ত্রিক পদক্ষেপে যেভাবে তিনি ঘরের ভিতর প্রবেশ করলেন এবং ঘরে ঢুকে নেভানো বাতির ঢাকনার কিনারাটা যে রকম মনোযোগের সঙ্গে টেনে সোজা করলেন, টেবিলের মোটা বইটায় যেভাবে চোখ বোলাতে লাগলেন, তা থেকেই স্পষ্ট বোঝা গেল, সেই সময়ে অন্তত তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা, কামনা-বাসনা বলতে কিছুই নেই, তিনি তখন কিছুই ভাবছেন না। হয়ত তিনি ভুলেই গেছেন হলঘরে একজন আগন্তুক অপেক্ষা করছে। ঘরের ভিতরকার আবছা আলো ও নিস্তব্ধতাও যেন আরো বেশি করে তাঁর বিমূঢ় ভাব বাড়িয়ে দিল।
বসার ঘর থেকে পড়ার ঘরে যাবার সময় ডান পাটা যতটুকু তোলা দরকার তার চেয়ে বেশি তুলে তিনি দরজাটার জন্যে হাতড়াতে লাগলেন। তার সারা গায়ে বিমূঢ় ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। মনে হচ্ছে যেন অচেনা কোনো বাড়িতে এসে পড়েছেন কিংবা জীবনে এই প্রথম মদ্যপান করেছেন আর তার অপরিণামদর্শী প্রতিক্রিয়ায় হতবুদ্ধ হয়ে গেছেন। পড়ার ঘরের একটা দেয়ালে বইয়ের আলমারিগুলোর ওপর চওড়া একফালি আলো এসে পড়েছে, আলোটা আর সেইসঙ্গে কার্বলিক অ্যাসিড ও ইথারের উগ্র গন্ধ শোবার ঘর থেকে আসছে, শোবার ঘরের দরজাটা আধা খোলা... টেবিলের পাশে একটা চেয়ারে ডাক্তার বসে পড়লেন, আলোর রেখা অনুসরণ করে বইগুলোর দিকে একবার তাকালেন, তারপর আবার উঠে দাঁড়িয়ে শোবার ঘরে চলে গেলেন।
এইখানটাতেই, এই শোবার ঘরের ভিতরটাই মৃত্যুর মতো স্তব্ধ। এ ঘরের নগণ্যতম জিনিসটাও দেখে বোঝা যাচ্ছে কিছুক্ষণ আগে এখানে কী ঝড় বয়ে গেছে। সেই ঝড় এখন ক্লান্ত একটা অবসাদে স্তিমিত হয়ে আছে। সবকিছুই এখন স্থির, নিস্তব্ধ। একটা টুলের ওপর একরাশি শিশি-বোতলের মাঝখানে একটা মোমবাতি, ও দেয়ালের আলমারি থেকে সারা ঘরটা আলোকিত হচ্ছে। ঠিক জানলার নিচে বিছানার ওপর একটি ছোট ছেলে শুয়ে রয়েছে, তার চোখদুটি বিস্ফারিত, মুখে চমকে ওঠা বিস্ময়! ছেলেটি স্থির, নিস্পন্দ, কিন্তু তার খোলা চোখদুটো প্রতি মুহূর্তে যেন কালো হয়ে আসছে এবং ঘোমটা টেনে কোটরের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। মা বিছানার পাশে নতজানু হয়ে বসে, শয্যাবৃত তার মুখটা ঢাকা, হাতদুটো দিয়ে ছেলেকে জড়িয়ে রয়েছে। ছেলের মতো মাও নিস্পন্দ, কিন্তু তার হাতদুটোর তার দেহের রেখায় না জানি কী অস্থিরতা স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। তিনি যেন তার সমস্ত সত্তা দিয়ে লোভাতুর আগ্রহে নিঃশ্বাসটাকে আঁকড়ে ধরে আছেন, মনে হচ্ছে তার অবসন্ন দেহের এই যে শান্ত, স্বাভাবিক ভঙ্গীটি অনেক কষ্টে তিনি অর্জন করেছেন, সেটাই তিনি হারাতে চান না। কম্বল, ছেঁড়া কাপড়ের টুকরো, জলের গামলা, মেঝের ওপর ছড়িয়ে পড়া জল, এখানে ওখানে ছড়ানো চামচ, ব্রাশ, সাদা চুনের জল ভর্তি বোতল, এমনকি ঘরের বদ্ধ ও ভারী বাতাস—সবকিছুই যেন গভীর ক্লান্তিতে শ্রান্ত ও অবসন্ন।
ডাক্তার স্ত্রীর পাশে একবার দাঁড়ালেন। ট্রাউজারের পকেটে হাতদুটো চালিয়ে ঘাড়টা কাত করে তাকালেন সন্তানের দিকে। তার মুখের ভাব করুণ। দাঁড়াতে দাঁড়াতেই জলাশয়ে ঝলমল করছে শুধু চোখের জলগুলোই।
অপ্রশস্তকর যে ভাবব্যঞ্জনা মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত শোকের কক্ষে তার লেশমাত্র নেই। ঘরের ভিতরকার নিস্তব্ধতা, মায়ের ভঙ্গীতে, পিতার সর্বাঙ্গে পরিস্ফুট নার্ভাসনেসে—কী যেন ছিল যা প্রায় মনোহর, যা মনকে নাড়া দেয়। মানবীয় শোকের এই সূক্ষ্ম অতীন্দ্রিয় সৌন্দর্য এমনিতেই সহজবোধ্য নয়, বর্ণনাতীত তো বটেই! একমাত্র সঙ্গীতের মাধ্যমেই হয়ত তার কিছুটা বোঝানো যায়। শোকার্ত এই নীরবতাই তাই সুন্দর। কারিলভ ও তার স্ত্রী দু’জনেই নীরব, কাঁদছেও না। মনে হচ্ছে গুরুভার শোক ছাড়াও তারা তাদের বর্তমান অবস্থার কাব্যময়তায় বিহ্বল।
যথাকালে যেমন তাদের যৌবন চলে গেছে, একমাত্র সন্তান মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের সন্তানলাভের সম্ভাবনাও চিরতরে বিলুপ্ত হল। ডাক্তারের বয়স চল্লিশ, এরই মধ্যে তার মাথার চুলে পাক ধরেছে এবং চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ পড়েছে। তার বিবর্ণ রূপরেখাও স্ত্রীর চেয়ে কম আকর্ষণীয় নয়। আন্দ্রেই তাদের একমাত্র সন্তানই ছিল না, তিনিও তাদের শেষ সন্তান ছিলেন।
ডাক্তারের প্রকৃতি তার স্ত্রীর বিপরীত। মানসিক কষ্টের সময় কাজের মধ্যে যারা ডুবে থাকতে চায় ডাক্তার তাদের দলে। স্ত্রীর পাশে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে শোবার ঘর থেকে তিনি বেরিয়ে গেলেন। চৌকাঠ পার হবার সময় ডান পাটা আবার অকারণে একটু বেশি উঁচু করলেন। এবার গেলেন ছোট একটি কামরায়। ঘরটার অর্ধেকটাই জুড়ে রয়েছে একটা সোফা। সেখান থেকে গেলেন রান্নাঘরে। উনুনের কাছটায় ও পাচকের বিছানার পাশে কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে মাথা নিচু করে একটা ছোট দরজা পার হয়ে আবার তিনি ফিরে এলেন হলঘরে।
হলঘরে আবার তিনি সাদা মাফলার ও বিবর্ণ মুখটার সম্মুখীন হলেন।
‘শেষ পর্যন্ত তাহলে এলেন।’ আবোগিন হাঁফ ছেড়ে বলল। সঙ্গে সঙ্গে হাতটা বাড়িয়ে দরজার হাতলটা ধরল। ‘অন্যথায় করে আসুন তাহলে।’
‘কিন্তু আমি তো বলেই দিয়েছি আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’ ডাক্তার হঠাৎ যেন সংজ্ঞা ফিরে পেলেন। ‘কী আশ্চর্য!’
‘আমি পাষাণ নই, ডাক্তারবাবু।’ আপনার অবস্থাটা আমি ভালোভাবেই বুঝতে পারছি। আপনার জন্যে সত্যিই আমি দুঃখিত।’ মাফলারে হাতদুটো রেখে নম্রভাবে আবোগিন বলল। ‘শুধু আমার জন্যে আমি আপনাকে ডাকছি না। আমার স্ত্রী মারা যাচ্ছে। আপনি যদি তার সেই আর্তনাদ শুনতে পেতেন, যদি তার মুখখানা দেখতেন, বুঝতে পারতেন কেন আমি এত করে সাধাসাধি করছি। হা ভগবান, আমি ভাবলাম আপনি কোটটা পরে নিতে গেলেন।’
‘আমার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়।’ বসার ঘরের দিকে যেতে যেতে ডাক্তার প্রতিটি কথা স্পষ্টভাবে বললেন।
আবোগিন পিছনে পিছনে গিয়ে তার সার্টের আস্তিনটা ধরে ফেলল।
‘আমি বুঝতে পারছি আপনি খুব বিপদে পড়েছেন, কিন্তু আমি আপনাকে দাঁতের ব্যথা সারাতে বা রোগ ধরাতে ডাকছি না, মৃত্যুর কবল থেকে একটা মানুষকে বাঁচাতে ডাকছি।’ কাতর কণ্ঠে তিনি বলে চললেন, ‘একটা মানুষের জীবন ব্যক্তিগত দুঃখশোকের ওপরে। মনের বল আর বীরত্বের পরিচয় দিন! মানবতার আবেদনে সাড়া দিন।’
‘মানবতা—মানবতা তো সস্তার মোড়ক।’ কারিলভ চটে উঠে বললেন। ‘সেই মানবতার দোহাই দিয়েই আমি আপনাকে বলছি আমাকে নিয়ে যাবার জন্যে পীড়াপীড়ি করবেন না। আশ্চর্য, এখন আমার দাঁড়িয়েই থাকতে কষ্ট হচ্ছে, অথচ মানবতার নামে এখন আমাকে শাসাবার চেষ্টা করছেন। ঠিক এই মুহূর্তে আমার দ্বারা কিছুই করা সম্ভব নয়... না, কিছুতেই আমি যাবো না। তাছাড়া আমার স্ত্রীর কাছে থাকার মতো কেউই নেই। না, না, আমি যাবো না...।’
হাত দিয়ে আগন্তুককে ঠেলে কারিলভ এক পা পিছিয়ে এলেন।